বিশ্ব সাহিত্যের ১০ টি বিখ্যাত শিশুতোষ বই

শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে শিশুতোষ সাহিত্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 

কিশলয় তৈরি করেছে বিশ্বসাহিত্যের ১০টি বিখ্যাত শিশুতোষ বইয়ের তালিকা। এ বইগুলো শিশুদের পাশাপাশি সারা পৃথিবীর বড়দের কাছেও সমানভাবে প্রিয়।

গ্রিম ভাইদের রূপকথা (১৮১২)

সিন্ডেরেলা বা ব্যাঙ রাজকন্যা, সোনার পাখি, হ্যান্সেল আর গ্রেটেল বা তুষার কন্যা ও সাত বামনের গল্প কে না জানে! এগুলো মূলত জার্মানির রূপকথা।

উনিশ শতকে জ্যাকব ও উইলহেল্ম গ্রিম নামে দুজন ভাই বাস করতেন জার্মানিতে। তারা দুজনেই ছিলেন ভাষাবিদ আর দুজনেরই ছিল লোককথা সংগ্রহের ঝোঁক।

এ দুই ভাই মিলে ১৮১২ সালে তাদের সংগ্রহ করা রূপকথাগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। বইটির নাম দেন গ্রিম ভাইদের রূপকথা।

তাদের এই সংকলনের মাধ্যমেই জার্মানির লোককথা ও গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বের শিশুদের উপভোগের জন্য।

বাংলা ভাষায় বইটির নির্বাচিত কিছু গল্পের অনুবাদ পাওয়া যায়।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের গল্প (১৮৩৫-১৮৩৭)

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন ছিলেন ডেনমার্কের লেখক। মূলত শিশুদের জন্য লেখা তার ১৫৬ টি রূপকথার গল্পের জন্য তিনি আজও বিখ্যাত। গল্পগুলো প্রকাশিত হয় ১৮৩৫ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যে। তার বিখ্যাত গল্পের মধ্যে রয়েছে কদাকার হাঁস, রাজার নতুন পোশাক, তুষার রাণীর মতো গল্প।

আজব দেশে এলিস (১৮৬৫)

ইংরেজ লেখক ও গণিতবিদ লুইস ক্যারোল তার শিশুতোষ লেখার জন্য বিখ্যাত। এর মধ্যে আজব দেশে এলিসের ভ্রমণের ঘটনা নিয়ে তার আজব দেশে এলিস বইটি ইংরেজি শিশু সাহিত্যে ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত। ১৮৬৫ সালে প্রকাশের পর থেকে বইটি শিশুর কল্পনাপ্রবণ মনকে এলিসের সাথে এক আজব দেশে ভ্রমণে নিয়ে চলেছে।

সিংহ, ডাইনী ও আলমারি (১৯৫০)

ব্রিটিশ লেখক সি. এস. লুইসের বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে ইংরেজিতে The Lion, the Witch and the Wardrobe নামে। বইটি লুইসের ক্রনিকলস অব নার্নিয়া সিরিজের প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত বই।

এ সিরিজের অন্যান্য বইগুলো হলো Prince Caspian (১৯৫১), The Voyage of the Dawn Treader (১৯৫২), The Silver Chair (১৯৫৩), The Horse and His Boy (১৯৫৪) The Magician’s Nephew (১৯৫৫), The Last Battle (১৯৫৬) তার আরও কিছু বিখ্যাত গল্প।

সাগরতলে বিশ হাজার লীগ (১৮৭০)

সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে বিশ্বসাহিত্যে অগ্রদূত বলা যায় ফরাসি সাহিত্যিক জুল ভার্নকে। ক্যাপ্টেন নিমোর ডুবোজাহাজ নিয়ে সমস্ত মহাসাগরগুলো ভ্রমণের কাহিনী নিয়ে ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হল সাগরতলে বিশ হাজার লীগ।

হেইডি (১৮৮০)

সুইস লেখিকা জোহানা স্পাইরির লেখা হেইডি শিশু সাহিত্যের একটি বিশ্ববিখ্যাত ক্লাসিক। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হেইডি। একটি সরল, আনন্দময় পাহাড়ি মেয়ে, যে তার দাদার সঙ্গে সুইস আল্পসে থাকে। প্রকৃতির কাছাকাছি তার জীবন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং শিশুসুলভ নিষ্পাপ মন সকল শিশুর মন কাড়ে।

ছোট রাজপুত্র (১৯৪৩)

ফরাসি লেখক আঁতোয়ান দ্য সাঁ-একজুপেরির লেখা দ্য লিটল প্রিন্স প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে।

গল্পটি এক ছোট্ট রাজপুত্রকে ঘিরে, যে ভিন্ন ভিন্ন গ্রহ ভ্রমণ করে জীবনের নানা দিক সম্পর্কে জানতে শেখে। এক পাইলটের সঙ্গে তার কথোপকথনের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও জীবনের আসল মূল্যবোধ উঠে আসে।

ভাষা খুবই সহজ, কিন্তু প্রতিটি অধ্যায়ের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর দর্শন। শিশুদের জন্য এটি একটি সুন্দর গল্প, আর বড়দের জন্য আত্মসমালোচনার আয়না।

দ্য লিটল প্রিন্স এমন একটি বই, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে আসে।

শার্লটের জাল (১৯৫২)

আমেরিকান লেখক ই. বি. হোয়াইটের লেখা Charlotte’s Web প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।

গল্পটি একটি শূকরছানা উইলবার এবং একটি মাকড়সা শার্লটের বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে। শার্লট নিজের বুদ্ধি ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে উইলবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

প্রাণীদের গল্প হলেও বইটি মানুষের গভীর অনুভূতি, বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের মূল্য শেখায়। ভাষা সহজ, আবেগ কোমল।

শিশুদের জন্য এটি বন্ধুত্বের একটি আদর্শ গল্প, যা মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

মাটিল্ডা (১৯৮৮)

ব্রিটিশ লেখক রোয়াল্ড ডালের লেখা Matilda প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে।

ম্যাটিল্ডা একটি অত্যন্ত মেধাবী ছোট মেয়ে, বই পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু তার প্রতি নিষ্ঠুরতা ও অবিচার করে চারপাশের বড়রা। নিজের বুদ্ধি ও সাহস দিয়ে সে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

গল্পটি মজার, ব্যঙ্গাত্মক এবং অনুপ্রেরণামূলক। এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং পড়ার আনন্দ শেখায়।

হ্যারি পটার ও ফিলোসফার স্টোন (১৯৯৭)

ব্রিটিশ লেখিকা জে. কে. রাউলিংয়ের লেখা Harry Potter and the Philosopher’s Stone প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। এই বই দিয়েই শুরু হয় আধুনিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশু-কিশোর ফ্যান্টাসি সিরিজ হ্যারি পটার

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হ্যারি পটার। বাবা-মা হারানো এক অনাথ ছেলে, যে একাদশ জন্মদিনে জানতে পারে সে একজন জাদুকর। এরপর সে ভর্তি হয় হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট অ্যান্ড উইজার্ড্রিতে, যেখানে তার সামনে খুলে যায় জাদু, বন্ধুত্ব ও বিপদের এক নতুন জগৎ।

এই বইটি হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম বই হওয়ায় এখানেই পরিচয় ঘটে হগওয়ার্টস, রন, হারমায়োনি, ডাম্বলডোর ও ভলডেমর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর সঙ্গে। গল্পটি রহস্য, অভিযান ও বন্ধুত্বের আবেশে ভরপুর।