দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিবিদদের ১০টি বিখ্যাত আত্মজীবনী

রাজনীতিবিদদের আত্মজীবনী শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা নয়। এগুলো সেই সময়কার রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদল এবং রাষ্ট্রগঠনের অন্তর্গত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। 

দক্ষিণ এশিয়ার কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের লেখা এমন ১০টি আত্মজীবনী নিচে তুলে ধরা হলো।

আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর – আবুল মনসুর আহমদ

ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে শুরু করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জন্মপর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রত্যক্ষ বিবরণ এ বইটি।

এ বইয়ে আবুল মনসুর আহমদ ব্রিটিশ শাসনের অধীনে দানা বাঁধা খেলাফত আন্দোলন থেকে তার রাজনীতির অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুরু করেছেন।

এর মধ্যে ঘটে গিয়েছে দুইটি স্বাধীনতা লাভের ঘটনা। প্রথম স্বাধীনতায় সৃষ্টি হয় পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি রাষ্ট্রের। আর দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের। 

তার এই পঞ্চাশ বছরের রাজনীতি সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতার বর্ণনা শেষ হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন সম্পর্কে তার মূল্যায়নের মাধ্যমে।

India Wins Freedom — মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পারিবারিক প্রথার বাইরে গিয়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। এবং  ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হন। রাজনীতিতে তার অবস্থান ছিল যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হবে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য। 

The Story of My Experiments with Truth — মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী (১৮৬৯-১৯৪৮) ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করতে অহিংস আন্দোলন পরিচালনা করেন। গান্ধী বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিকামী মানুষকে আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

গান্ধীর আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এ বইয়ে শৈশব থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি।

আত্মকথা — রাজেন্দ্র প্রসাদ

রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি একনিষ্ঠ গান্ধীবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৬ সালে আত্মকথা নামে হিন্দিতে তার আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়।

An Autobiography — জওহরলাল নেহেরু

জওহরলাল নেহেরু-র আত্মজীবনীতে তাকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নয় বরং একজন চিন্তাবিদ হিসেবে আবিষ্কার করা যায়। এ বইয়ে নেহেরু তার ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ কারাবাস এবং স্বাধীন ভারতের প্রস্তুতির সময়কার মানসিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন।

Wings of Fire — এ.পি.জে. আবদুল কালাম

এই আত্মজীবনীতে এ.পি.জে. আবদুল কালাম তাঁর শৈশব, বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন এবং ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। বিজ্ঞানমনস্ক রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও নৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি প্রামাণ্য দলিল এই আত্মজীবনী।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী — শেখ মুজিবুর রহমান

এই আত্মজীবনীতে শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে পাকিস্তান পর্ব পর্যন্ত বাঙালির রাজনৈতিক জাগরণ ও স্বাধীনতার সংগ্রামের অভ্যন্তরীণ ইতিহাস তুলে ধরেছেন। বইটিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করা যায়। 

Daughter of the East — বেনজির ভুট্টো

Daughter of the East বইটি দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র, ক্ষমতা ও নারীনেতৃত্বের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

এই আত্মজীবনীতে বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানের সামরিক শাসক জিয়া-উল-হকের শাসনের অধীনে বড় হওয়া, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ এবং ভুট্টো পরিবারের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথা নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন।

In the Line of Fire — পারভেজ মোশাররফ

এই আত্মজীবনীতে পারভেজ মোশাররফ তার সামরিক জীবন, ক্ষমতা দখল, এবং ৯/১১ এর পরবর্তী বিশ্বরাজনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থান নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।

The Maldives: A Nation in Peril — মামুন আবদুল গাইয়ুম

এটি প্রচলিত অর্থে পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী নয়। তবে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনায়ক মাউমুন আবদুল গাইয়ুমের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রনেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিখিত দলিলগুলোর একটি। তবে বইটি তিনি নিজেই লিখেছেন এবং এতে মালদ্বীপের অস্তিত্বসংকটকে কেন্দ্র করে তার চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।