তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ৫টি উপন্যাস পড়া উচিত

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যিক। তার লেখা উপন্যাসের সংখ্যা ৬৫টি। এর বাইরেও ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা প্রভৃতি মিলিয়ে তার রচনার সংখ্যা বিপুল। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলোর একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো গড়ে ওঠে একটি গ্রামীণ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ৫টি উপন্যাস পড়া উচিত তার তালিকা করা হলো এই নিবন্ধে।

ধাত্রীদেবতা

উপন্যাসটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর যে ভঙ্গী তার দেখা মেলে এ উপন্যাসে। উপন্যাসটিতে তারাশঙ্করের নিজের জীবনের নানা ছাপ স্পষ্ট।

উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে শিবনাথ নামের এক পতনোন্মুখ জমিদার পুত্রকে ঘিরে। শিবনাথের বিয়ে, বিচ্ছেদ, ব্রিটিশ-বিরোধী সহিংস ও অহিংস আন্দোলনে অংশগ্রহণ 

উপন্যাসটি শিবনাথকে কেন্দ্র করে—এক পতনোন্মুখ জমিদার পরিবারের দ্বন্দ্ব, পিসীমার কর্তৃত্ব, অকালবিবাহ, গৌরীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের পথ ধরে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জাগরণকে তুলে ধরে। অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গ্রেফতার হওয়ার মুহূর্তে পরিবার আবার একত্রিত হয়, এবং শিবনাথ তার পিসীমার স্নেহকে ছেলের প্রতিও বিস্তার করার অনুরোধ জানায়।

ত্রয়ী উপন্যাস হিসেবে ধাত্রীদেবতার ধারায় পরবর্তীতে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম নামের দুটি উপন্যাস।

গণদেবতা

গণদেবতা উপন্যাসের দুটি খণ্ড। প্রথম খণ্ডের নাম চণ্ডীমণ্ডপ আর দ্বিতীয় অংশের নাম পঞ্চগ্রাম। তবে প্রথম খন্ডটি গণদেবতা নামে এবং পঞ্চগ্রাম স্বতন্ত্র উপন্যাস হিসেবে পড়া হয়ে থাকে। গণদেবতা প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

গণদেবতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

পঞ্চগ্রাম

এ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। গণদেবতা ও ধাত্রীদেবতা-র সাথে পঞ্চগ্রাম কে তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতবর্ষে নানা জাতের মানুষের আগমন ও এ দেশের মানুষ হয়ে যাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের। কিন্তু ভারতবর্ষের গ্রাম অপরিবর্তনীয়। গ্রামের শাষণ, শোষণ আর আনন্দের উপকরণ হাজার বছরের ইতিহাসে একটুও বদলায় নি। এই রকম এক গ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত পঞ্চগ্রাম উপন্যাসটি।

কবি

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের খ্যাতি সামাজিন উপন্যাস রচনায়। কবি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় একটি সামাজিক উপন্যাস। নিতাইচরণ নামের একজন কবিয়ালের জীবনের গল্প এ উপন্যাস।

হাঁসুলি বাঁকের উপকথা

বাঁশবাদি নামের একটি গ্রাম। সে গ্রামে কাহারদের বাস। কাহারদের এক দল থাকতো বেহারা পাড়ায়, আরেকদল থাকতো আটপৌরে পাড়ায়। বেহারা পাড়ার লোকেদের কাজ ছিল পালকি বহন করা। আর আটপৌরে পাড়ার লোকেরা করতো চাষবাষ। 

কাহারদের এই দুই পাড়ার লোকেদের মধ্যে সংঘর্ষ ছিল নিয়মিত ব্যপার। এই সব সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ বাংলার জীবন, জমিদারদের কর্তৃত্বে মানুষের অবস্থা আর সময়ের সাথে ধ্যান-ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত এ উপন্যাসে তুলে এনেছেন তারাশঙ্কর।